Header Ads

Header ADS

valobasar golpo

ফেসবুক প্রেম

লোটো কোম্পানি এক জোড়া জোতা পাঁয়ে দিয়ে,সুন্দর একটা পারফিউম গায়ে লাগিয়ে আমার প্রিয় সাইকেল টা নিয়ে বেড় হয়েছিলাম টপ টেন কফি হাউজ টার উদেশ্যে।

কফি শপ টা শহরের মাঝখানেই পাঁচ তলা বিলডিং এর ছাদে অবস্থিত।বিলডিং টা তিন পাশে ছিল বড় রাস্তা।কয়েক পাঁ উত্তরের দিকে হেঁটে গেলেই মিলত সুন্দর্ একটা ফুলের দোকান।

বাসা থেকে আসার সময় লাল টুকটুকে তাজা একটা গোলাপ কিনে নিয়ে ছিলাম তার জন্য।কিছু দূর এগোতেই দেখি শিহাব সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । অবশ্য আমিই তাকে আসতে বলেছিলাম। দুজনে মিলে চললাম কফি শপের দিকে।

এই শহরের সব ওলি গলি আমার চেনা।কোথায় কোন মারকেট আছে কোন রেসটুরেন্টর খাবার ভালো,আবার কোন কাকা চা ভালো বানাতে পারে সব আমার জানা।কারণ এই শহরেই তো আমার জন্ম আর বেড়ে ওঠা।তাই সব নখ দর্পনে।

কফি শপ টা একটু তারাতারি খুলে।আমরা সাইকেল গুলো গ্যারেজে রেখে উপরের দিকে উঠে গেলাম। গিয়ে দেখেছিলাম এক জন লোক কাজ করছিল।আমি আর শিহাব এক পাশের একটা টেবিলে বসেছিলাম।আর অপেক্ষা করছিলাম জেসমিনের জন্য।

আমি সেদিনের আগে কখনো তাকে দেখিনি।আমাদের ফেসবুকে প্রথম কথা হয়েছিল।শুরু টা ছিল খুব ইন্টারেসটিং। আমার নতুন আইডি খোলাতে কিছু ফ্রেন্ড এড করতেই হতো।তাই কয়েক জন কে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম।কিছু ক্ষণ পর দেখি কেউ এক জন এসএমএস দিল হাই।আমিও রিপ্লাই দিয়েছিলাম হ্যালো। আর এই হাই হ্যালোতেই শুরু হয়েছিল আমাদের কথা। তিন মাস কথা বলার পর জানতে পারি তার নাম জেসমিন এবং সে দশম শ্রেণিতে পরে।আমাতের মাঝে ভালোই সে দিন সকালেই তারাতারি গোসল করে রেডি হচ্ছিলাম।কোনো প্রাইভেট বা টিউশনি ছিল না।তবে তার চেয়েও জরুরি কাজ ছিল।সকালের নাস্তা কোনো ভাবে শেষ করে, গায়ে কালো রং এর ফুল হাতা শার্ট,আর জিন্স প্যান্ট পরেছিলাম।তারপর ফ্যাশন কথা বার্তা চলছিল।তার কিছু দিন পরে একটা পিক চেয়েছিলাম।সে বলেছিল ”পিক দিয়ে কি হবে? চলো দেখা করি।”

জেসমিনের বাসা ধানমোন্ডির আশে পাশেই ছিল।মানে আমাদের এলাকার পাশেই।তাই সে সকালেই আসতে রাজি হয়েছিল। নয় টার সময় আসার কথা ছিল।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম নয় ট্ পাঁচ বাজে। একটু পরেই দেখি দুই জন মেয়ে আসছিল। আমিও ভাবছিলাম ওরাই হবে।কিছু ক্ষণ পর ওরা কফি শপে চলে আসল। সেই ড্রেস যা পড়ে জেসমিনরে আসার কথা কথা ছিল । শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছিল। কি যে অপূর্ব তাগতেছিল বলে প্রকাশ করতে পারব না।

আমি তার দিকে ইশারা করে বলি”জেসমিন? সে উত্তর দিয়েছিল জি।তাকে আমার নাম বলে, হাঁটু গেড়ে তার সামনে বসে, সেই লাল গোলাপ টা উচু করে ধরে বলেছিলাম আই লাভ ইউ। আমার কথা শোনার পর আনন্দে আত্ন হারা হয়ে সে ফুল টা গ্রহণ করেছিল। কিছু ক্ষণ সেখানে দেরি করার পর আমরা বেড় হয়েছিলাম।এর পর আমরা অনেকবার দেখা করেছিল। তার সাথে দেখা বা কথা না হলে আমি থাকতে পারতাম না।এভাবে আমাদের প্রায় দুই বছর কেটে যায়।

অন্য সব দিনের মতোই সেদিনও কথা বলছিলাম।কিন্তু সেদিন তার কথাতে িএটু অন্যরকম সুর শুনতে পেয়েছিলাম।সে কেন জানি সব কিছুতেই শুধু সুর মিলাচ্ছিল।কেমন একটা উদাস উদাস লাগছিল তাকে।আমি তাকে বলেছিলাম তার কিছু হয়েছে নাকি। কিন্তু সে হাসির ছলে সব উড়িয়ে দিয়েছিল।

তার পর  একদিন সে আমাকে আবার সেই কফি শপে ডেকেছিল।আমিও গিয়েছিলাম।সে আনেক যত্ন করে আমাকে কফি খাইয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেছিল”অনেক ইচ্ছেছিল তোমার ঘরের বউ হবো।অনেক যত্ন করে কফি খাওয়াব। কিন্তু সেই আসা আর মনে হয় পূরণ হবে না।হয় তো আজকেই আমাদের শেষ দেখা।”

আমার দুই চোখ দিয়ে কখন যে আমার অজান্তেই পানি গড়িয়ে পড়েছিল বুঝতেই পারছিলাম না।তার কথা শুনে আমার ভিতর যেন ভেঙ্গে যাচ্ছিল।

নিজেকে সামলিয়ে তাকে জিঙ্গাসা করেছিলাম কেন সে এমন করে বলেছিলো। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেছিল তার বিয়ে অনেক আগেই ঠিক করা হয়েছিল মামাতো ভাইয়ের সাথে আর এটা সে জানত না। জেসমিন তার বাবা মা কে আমাদের কথা্ বলেছিল।কিন্তু তারা রাজি হয়নি। আর জেসমিন বাবা মায়ের ভালোবাসা বলিদিয়ে আসার কাছে আসতে চায়নি।এক ভালোবাসা কে বলি দিয়ে আরেক ভালোবাসা নিজের করে নেওয়া তার জন্য ছিল কঠিন কাঝ। কারণ তাকে তার বাবা মা জন্ম দিয়েছিল,ছোট থেকে লালন পালন করে বড় করেছিল।সে চন্য তাদের কে সে কখনোই ছাড়তে চায়নি। অন্য দিকে আমি তো ছিলাম কয়েক বছরের চেনা কোনো এক জন মানুষ।

সেদিন বাড়ি ফিড়ে অনেক কেঁদে ছিলাম। আমি তাকে আর জোড় করিনি। কারণ আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।আর ওর ভালো মানেই তো আমার ভালো। সে যেখানেই থাকুক ভালো থাক।চাঁদ কে আমরা ছুতে না পেলেও যেমন দেখেই ভালোবাসি, তেমনি আমিও তাকে ভালোবাসব

কথা গুলো বলছিলাম নিপাকে ।যার সাথে আমার বিয়ের আলাপ চলছিল।দুজন দুজন কে জানার জন্য সে আমাকে প্রেমের বেপারে বলতে বলেছিল।তাই তাকে জানাচ্ছিলাম।কথা গুলো তাকে বলে নিজেকে অবশ্য হালকাও লাগছিল।

নিপা কথা গুলো শুনে আমাকে জিঙ্গাসা করেছিল এখন জেসমিন কোথায় আছে।আমি তাকে বলেছিলাম তার স্বামীর সাথে আছে। শুনেছি তাদের একটা ছেলেও হয়েছে।

আমার কথা শুনে বলেছিল আমাকে তার অনেক ভালো লেগেছিল। কারণ আশাবাদি ছিল তাকেও একদিন এতটাই ভালোবাসব বলে।

আজ আমাদের বিয়ে। যদিও প্রথমের দিকে রাজি ছিলাম না।বাসা থেকে অনেক জোর করাতে বিয়েতে রাজি হয়েছি। 

কোন মন্তব্য নেই

graphixel থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.