Header Ads

Header ADS

রক্ত চোষা

 


আমি শিহাব। ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরিক্ষা দিয়ে ঘুরতে ‍গিয়েছিলাম গ্রামের বাড়িতে।গ্রামের নাম আনন্দোপুর।গ্রাম টা দেখেই মনে হয়েছিল,অতীতে এখানে নদী ছিল।তবে এখন নেই।গড়ে উঠেছে রাস্তা ঘাট আর সারি সারি গাছ। গ্রামে আমার দাদুর বাড়ি।ওখানে দাদুর সাথে চাচাও থাকে।আর চাচার এক ছেলে এক মেয়ে। জেসমিন ছিল বড় আর রাতুল ছিল ছোট।আমি যখন গিয়েছিলাম জেসমিন তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে,আর রাতুল দ্বিতীয় শ্রেণিতে। আমরা আসব শোনে ফুফুও চলে আসে দাদুর বাসায়। তার এ ছেলে, নাম রাকিব।সেও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।আমরা যে সময় টাতে বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন ছিল শীতকাল। আর গ্রামে বেড়াতে গেলে শীতকালের চেয়ে ভালো সময় আর হয় না। কারণ অনেক আছে। যেমন ধর, বর্ষাকালে গেলে বৃষ্টির ভয় থাকে।এর মধ্যে কোথাও বেড় হওয়া যায় না।সারা দিন ঘরে বসে থাকতে হবে।কারণ বৃষ্টি হলেই তো রাস্তায় কাঁদা হবে।এছাড়া কাল বৈশাখির ঝড় তো আছেই।অন্যদিকে শীতের মজার শেষ নেই।

সব চেয়ে বড় মজা হচ্ছে পিঠা খাওয়া। আমরা গ্রাসের বাড়িতে ঠিক দুপুরের আগে পৌছাই।সেখানে গিযে দেখি আগে থেকেই সবাই এসেছিল। খাওয়া দাওয়া করে,আমি কিছু ক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে,বিকালে রাতুল সহ খেলতে যাই।বাড়ি থেকে অল্প কিছ দূরেই ছিল গাছ বাগান।বাগানের পূর্ব দিক দিয়ে আগে নালা ছিল্ তবে এখন নেই।খেলতে খেলতে নালা টার কাছে যাই।দেখলাম শুধু এক জাইগাতেই পানি আছে।আর এই জাইগা টা দেখে মনে হচ্ছিল অনেক গভীর।এতটাই গভীর যে পানি গুলা কালো দেখাচ্ছিল।তবে কোনো ময়লা নেই।তখন জানতাম না কেন লোক জন ঐখানে যাতায়াত করে না।হোসল বা কাপড় চোপর ধোয়া তো দূরের কথা।আমরা খেলতেই ছিলাম।সন্ধার একটু আগে আগে দেখলাম চাচি এসেছে আমাদের খুঁজতে। এসেই সে প্রচন্ড রাগ, কেন আমরা সেখানে গিয়েছিলাম? পরে তারাতারি বাসায় চলে আসি।এই বাসায় বিদুতের সংযোগ ছিল না।। এই বাসা মানে এই এলাকাতে এখনো বিদুতের সংযোগ দেয়া হয়নি।এর কারণে এখান কার সকলে ল্যাম্প ব্যবহার করে।ল্যাম্প হলো এক ধরণের কাঁচের বা পিতলের বোতলজাতিয় এক ধরণের পাত্র।যার সিপি টা ড্রোপের মতো,যাকে প্রদীপ বলাযেতে পারে।এটা জ্বালাতে প্রয়োজন হয় কেরোসিন তেলেরেএর আলো তেমন বেশি হয় না।মোমবাতির চেয়ে একটু বেশি।

সেই রাতেতেমন কোনো মজা করতে পারিনি। শুধু সেই খালের কথাই মনে হয়েছে। নিজেইে নিজেকে প্রশ্ন করেছি। অন্য সব জায়গা বন্যার পলি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।কিন্তু ঔখানে এখনো এত গবীর কেন?কেন লোক জন কে ডোবার কাছেযাতযয়াত করতে দেখলাম?এভাবে কেটে গেল ঔ রাত টা।পরের দিন সকালে সবাই উঠেছে।  কিন্তু আমার একটু ‍অলোস অলোস লাগছিল তাই দেরি করে উঠলাম।সকালে খাওয়া দাওয়া করার পর, জেসমিন কে জিঙ্গাসা করলাম,ঔখানে পুকুর টার কাছে কেউ যায় না কেন? উত্তরে জেসমিন বলে ঠিক ভাবে জানে না,তবে ওদের ঔখানে যাওয়া নিষেধ। দাদু নাকি প্রায়ই বলে ঔখানে না যাওয়ার জন্য। আরো বলে এগুলা থেকে দূরে থাকতে।

সেদিন আর অন্য জায়গাতে খেলতে যেতে দেয়নি। পরে উপায় না পেয়ে বাসাতেই কিছু টা সময় তিন জনে মিলে খেললাম। বিকালে জেসিমিনের স্কুলে গিয়েছিলাম,স্কুল টা দেখতে।দুই তলা বিলডিং,দেয়ালে আবার নকশা করা।সেুদীর্ঘ মাঠ,মাঠের পাশেই রাস্তা।দেখে অনেক ভালো লেগেছিল। জেসমিনের স্কুল ছুটি দিলে,আমি জেসমিন আর দাদু রওনা দিলাম।আমি দাদুর সাথেই গিয়েছিলাম।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দাদু কে বললাম,”আচ্ছা দাদু বাড়ির উত্তর দিকের পুকুর টাতে কেউ যায় না শুনেছি। কিন্তু কেন?” দাদু বলল ”ওর অনেক বড় গল্প আছে।রাতে সবাই একসাথে বসলে।”

বিকালে চাচার হাঁটে যাওয়ার সময়ই বুঝেছিলাম আজ অনেক মজার খাবার তৈরি হবে। মানে পিঠা বানাবে।ঠিক তাই হলো।দেখলাম আম্মু আর দাদি ‍মিলে চাউলের আটা করতে গেলেন।সন্ধার একটু পরেই চাচা সাথে আব্বুও বাসায় আসলেন। কে জানে হয়তো আব্বুও বাজারে গিয়েছিলেন।আমি জেসমিন,রাতুলআর রাকিব কে ডেকে নিয়ে দাদুর ঘরে গেলাম।দাদু বসে কিসের যেন বই গড়তেছিলেন।আমাদের দেখে ভেতরে ডেকে নিলেন।রাতুল অনেক ছোট,তাই দাদু ওকে নিজের  কাছে নিয়ে বসালেন।আমি বললাম”দাদু ওই পুকুরের রক্ত চোষার  গল্প টা বলো। দাদু বললেন আচ্ছা তাহলে শোন। এখন চরের মতো যে এলাকা টা দেখছ,আগে এগুলাও শহরের জমির মতো ছিল।এমন কি এগুলা জঙ্গল ছিল।অল্প মানুষ বাস করত এই গ্রমে।আর এই গ্রমে বাজার ছিল না।গ্রাম থেকে বাজারে জঙ্গল পেরিয়ে যাওয়ার একাটাই রাস্তা ছিল।গহিন জঙ্গলে রাস্তার পাশেই এটা শিমুল গাছ ছিল।আর সেই গাছেই থাকত রক্ত চোষা রাক্ষস।অতীতে সেই গাছ কে ঘিরে অনেক ঘটনা ঘটেছে।দিনে বেলায় তো সমস্যা ছিল না।তবে রাতে কেউ ঐ রাস্তা দিয়ে যেতে পারত না।কোনো না কোনো অঘটন ঘঠতইা।এসব ঘটনা দেখে অনেক সময় কেউ কেউ অঙ্গান তো।আবার অনেকে সময় ততক্ষনাত অসুস্থ্য হতো।তাই লোক জন রাতে ঐ রাস্তা দিয়ে আসা বন্ধ করে দেয়।তবে এটা ছাড়াও আরেক টা রাস্তা ছিল, ঐ টা অনেক সময় লাগত।আমি দাদুর দিকে একটু ঘেসে ঘেসে এগিয়ে বললাম”আচ্ছা দাদু গ্রমের মানুষ সেখানে কি দেখত?”দাদু আবার বলতে লাগল।”ষেখানে অনেক জন অনেক কিছু দেখত আবার অনেক রকম অদ্ভুদ শব্দ ও শোনতো।রাতে যখন লোক জন রাস্তা দিয়ে যেত কারো সামনে হঠাৎ বাঁশগাছ হেলে পড়ত।কেউ কেউ লাল আগুনও দেখত। এছাড়া কান্ন্র আওয়াজও শুনত অনেকে।

যাদের উপর নজর করত,তাতক্ষনিক কিছু না হলেও পরে অসুস্থ্য হতো।এমন কি তাদের বাড়িতে জ্বালাতন করত।

রাকিব দাদুকে বলে ”আচ্ছা নানু কেমন জ্বালাতন?” রাতে ঘরের চালে ঢিল ছুরত।বা মনে হতো গাছে ডাল যেন ভেঙ্গে পরছে।কখনো কখনো শোনা যায়, পয়সা যেন ঝনঝন শব্দ করে পরতেছে।হঠাৎ কেউ সামনে এসে আবার মিসে যেত।দাদু কথা শুনে মনে হচ্ছে আমার আশেপাশে কোনো ভুত বসে আছে।কারন ঘর তো প্রায় অন্ধকার।ল্যাম্পের আলোতে পুরো ঘর আলোকিত হয় না।

তার পর আমি দাদু কে জিঙ্গাসা করি “তাহলে ঐটা কে রক্ত চোষা বলা হয় কেন?” দাদু বলে ”কারন যাদের ইপর আচড় করত তাদের সবার রক্ত শূন্যতা দেখা দিত।এমন কি অনেকে মারাও গেছে।ওঝা কবিরাজ এনেও গাছ তেকে ওটাকে তারানো যায়নি।তার কয়েক বছরের মধ্যে গ্রম টা নদীর মাঝে বিলিন হয়ে যায়।সব গাছ কাটলেও, কেউ ভয়ে শিমূল গাছ টা কাটেনি। গাছ টা নদীর মাঝে ভেঙ্গে না পড়ে খাড়া ভোবে ডুবে যায়। পরে ঐখা্নে অনেক বড় গর্ত হয়।এমন কি নদী অন্য স্থানে গেলেও ঐটা আর মাটি দিয়ে ভরাট হয়নি।এখনো সারা বছর পানি থাকে।ওর কাছা কাছি কারো যাওয়া উচিত না, বিশেষ করে যাদের রাশি খারাপ। আর তোমরা কখনোই যাবে না।

এর মধ্যেই দাদি সবাই কে পিঠা খেতে ডাকলেন। কিন্তু ভয়ে কেউ ঘর থেকে বেড় হচ্ছিল না।পরে দাদু সবাই কে সাথে নিয়ে যায়।খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমাতে যাব,তখন দেখি রাতুল কান্না করছিল। স্থির থাকতে পারছিল না। রাত টা কোনো ভাবে কেটে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রাতুল ভালোই অসুস্ব্য।সে দাদু কে বলতেছিল রাতে কে যেন তাকে নিতে আসে।ওর বলা শেষ হলে চাচি বলে’রাতে ঘরের উপর মচ মচে শব্দ হয়। আর গায়ের রংওঠিক থাকে না।কখনো কালো আবার কখনো কাঁচা হলুদের মতো হয়।

দাদুর বোঝার আর বাকি রইল না ওর কি হয়েছে।তার সন্দেহ দূর করার তন্য নদে বলল রাতুল কি কখনো ঐ পুকুরে গিয়েছিল? চাচি বলল হ্যাঁ শিহাবের সাথে।ওরা কখন গেয়েছিলে কেই জানে না।আমি খুঁজতে গিয়ে দেখি ওখানে খেলা করছিল।পরে ওদের বাসায় নিয়ে আসি।দাদু আমাকে কিছু না বললেন না।চাচা কে ডাকলেন,তাকে কবিরাজ কে কল দিতে বললেন। তিনি কল দিয়ে দাদু কে দিলেন।দাদু অতি দ্রত কবিরাজ কে আসতেক বললেন। দুপুরের একটু আগেই কবিরাজ আসলেন , তার সাথে আরেক টা লোক ছিল. তিনি নাকি তুকখলার রাশি। তার উপর হাজির করা হলো সেই রাক্ষস টা কে।তার কাছে জানতে চাওয়া হলো কেন সে রাতুলকে ধরেছে? উত্তরে সে বলল “ আমি সেদিন আমার জায়গায় ছিলাম না। এসে দেখি দুেই জন কেলতেছিল। আমার লোভ হলো বড় টার দিকে। কিন্তু ওর রাশি বালো ছিল তাই ছোট টা কে ধরেছি। আমার প্রায় খাওয়া শেষ।আমি ছাড়তে পারব না।” কবিরাজ অনেক ক্ষণ পরে সেটাকে ছাড়াতে সক্ষম হয়। পরে ওটাকে এক টা কাঁচের বোতলের মধ্যে বন্দি করা হয়।আর পানি তে ফেলে দেয়।দাদু বলে েএর আগেও বোতলে বন্দি করা হয়েছিল। জানি না কিভাবে ছাড়া পায়।

এর পর বেশ কয়েক দিন গ্রামে থেকে বাসায় চলে আসি। আল্লাহ তায়ালার রহমতে আর কোনো সমস্যা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই

graphixel থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.